Saturday, August 6, 2016

বৃষ্টি এল আবার। তুইও আসবি। আমি জানি..

আজ বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে;
চলেছে গরজি, চলেছে নিবিড় সাজে।
হৃদয়ে তাহার নাচিয়া উঠিছে ভীমা,
ধাইতে ধাইতে লোপ ক'রে চলে সীমা,
কোন্ তাড়নায় মেঘের সহিত মেঘে,
বক্ষে বক্ষে মিলিয়া বজ্র বাজে।
বরষার রূপ হেরি মানবের মাঝে।
                           --------রবীন্দ্রনাথ 
আষাঢ় শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষাকাল অর্থাত্ বর্ষা ঋতু। এ ঋতুর প্রধান বৈশিষ্ট বৃষ্টি ঝড়া আকাশ, কর্দমাক্ত মাঠ, নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা পানিতে পরিপূর্ণ হওয়া, গাছপালার সতেজ রূপ,গরম আবহাওয়া ইত্যাদি ইতাদি। কিন্তু গ্রীষ্ম ঋতুতেই অর্থাত্ চৈত্রে বৈশাখে কালবোশেখীর সাথেই শুরু হয়ে যায় বৃষ্টির আনাগোনা। জ্যৈষ্ঠে কখনো কখনো অঝোরে বর্ষার মতো ঝরতে থাকে বৃষ্টি— যা বর্ষার আগমনী বার্তা জানিয়ে দেয়। 
বর্ষায় বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপ অন্যরকম হয়ে যায়।আকাশে ঘনকালো মেঘের আনাগোনা চলতে থাকে। কখনো বা আকাশ অন্ধকার করে বৃষ্টি নামে।দু’ তিন দিন হয়তো সূর্যের দেখাই মেলে না।কখনো কখনো শোনা যায় মেঘের গর্জন।একটানা বৃষ্টিতে কোথাও হঠাৎ বাজ পড়ার শব্দে কেঁপে ওঠে ছেলে-বুড়ো ।

বর্ষার কোমলতায় গ্রীষ্মের ঋতুর নিমর্মতা অর্থাত্ ঘাম ঝড়ে দর দর গ্রীষ্মের দুপুরে; মাঠ ঘাট চৌচিড় জল নেই পুকুরে এ ধরনের বাস্তবতার অবসান ঘটে। বর্ষায় আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা কলো মেঘ। কখনো বৃষ্টি, কখনো রোদ্র। কখনো সারাদিন অঝোরে বর্ষণ ঝড়ছে তো ঝড়ছেই। বর্ষার আকাশ ফর্সা হয় না। এই মেঘ, এই বৃষ্টি। মাঝে মাঝে সাদা কালো মেঘের ফাঁক দিয়ে সুর্য্যি মামা উকি মারে। রাতে মাঝে মাঝে চাঁদ মামার স্নিগ্ধ আলো এসে পড়ে গাছের চূড়ায়। এ অবস্থাকে বলা হয় প্রাকৃতিক বৈচিত্র। ষড়ঋতুর অন্যতম বর্ষা ঋতু যা বাংলাদেশের আবহাওয়া, পরিবেশ আর মনোজগতকে একেবারে বদলে দেয়। অধোর ধারায় বৃষ্টিস্নাত হয়ে ধরিত্রী, রোদে ঝলসে যাওয়া গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে। 

বর্ষার প্রকৃতি আর পাচঁটি ঋতুর মত নয়। বৃষ্টির মর মর ধ্বনি তীব্রভাবে আমাদের পঞ্চেন্দ্রিয়কে আভিভূত করে। এ কারণে এ দেশের কবি-সাহিত্যিকগণ বর্ষাকে নিয়েই সর্বাধিক সাহিত্য রচনা করেছেন। 

বর্ষাকালে আমাদের দেশে কেয়া,কামিনী,কদম, জুঁই,টগর,বেলি,চাঁপা প্রভৃতি ফুলের সুগন্ধে চারপাশ সুরভিত হয়ে ওঠে।অর্থকরী ফসল পাট তখন কৃষকের ঘরে আসে।আউশ ধানের মৌসুম তখন।পেয়ারা,কলা,চালকুমড়া,ঝিঙা,করলা,ঢ়েঁড়শ বরবটি ইত্যাদি ফল ও তরকারি বর্ষারই অবদান ।
বর্ষাঋতুর সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের একটা নিবিড় আত্নীয়তা আছে ।সে যোগ কেবল ব্যবহারিক নয়,অন্তরেরও।বর্ষায় বাংলার মানুষের অন্তরও সিক্ত–স্নিগ্ধ হয়ে ওঠে ।প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য মানুষের মনেও গভীর প্রভাব ফেলা যায় ।



















No comments:

Post a Comment